৪১ দিন পর সেপটিক ট্যাংক থেকে উদ্ধার শিশুর লাশ, গ্রেপ্তার ৩ – BanglaNewsBDHub.com |

Featured Image
PC Timer Logo
Main Logo



রংপুরে নিখোঁজের ৪১ দিন পর সেপটিক ট্যাংক থেকে ৪ বছর বয়সী এক শিশুর গলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে সেনাবাহিনী। এই ঘটনায় ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে কাউনিয়া উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নের মধ্য ধর্মেশ্বর মহেশা গ্রামের আফজাল হোসেনের বাড়ির সেপটিক ট্যাংক থেকে শিশুটির লাশ উদ্ধার করা হয়। হত্যাকাণ্ডের শিকার শিশুটির নাম দোলা মনি।

হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে সেনাবাহিনীর হাতে আটক তিনজন হলেন কুর্শা ইউনিয়নের ধর্মেশ্বর গ্রামের নুরুল ইসলাম (৪৫), তার ছেলে মামুন মিয়া (১৯) এবং একই গ্রামের আব্দুস সালামের ছেলে মোসন মিয়া (৫৬)। পরে আটক তিনজনকে কাউনিয়া থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে সেনাবাহিনী।

কাউনিয়া থানার ওসি (তদন্ত) মোস্তফা কামাল বলেন, প্রায় এক বছর আগে দেলওয়ারের স্ত্রীর সঙ্গে নুরুল ইসলামের স্ত্রীর কাপড় সেলাইয়ের পাওনা টাকা নিয়ে ঝগড়া হয়। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পরিবার কারো সঙ্গে কেউ কথা বলে না। এক বছর আগের ঝগড়াকে কেন্দ্র করে নুরুল ইসলাম ক্ষিপ্ত হয়ে (১৭ জানুয়ারি) দোলা মনিকে তার বাড়িতে নিয়ে গিয়ে শিশুটিকে শ্বাসরোধ এবং মাটিতে আছাড় মেরে মৃত্যু নিশ্চিত করে। পরে মরদেহ বস্তায় ঢুকিয়ে বাড়ির পিছনে কচুর ঝোপে লকিয়ে রাখে। এরপর রাতের অন্ধকারে আফজালের বাড়ির পিছনে টয়লেটের সেপটিক ট্যাংকে মরদেহ ফেলে ঢাকনা লাগিয়ে দেয়।

ওসি বলেন, শুক্রবার শিশুটির বাবা দেলওয়ার বাদী হয়ে তিনজনের নাম উল্লেখ করে হত্যা ও আলামত গোপনের ধারায় মামলা দায়ের করেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মর্গে পাঠানো হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আরও জড়িত আছে কিনা তা তদন্ত করা হচ্ছে। তিনি জানান, গত ১৭ জানুয়ারি উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নের ধর্মেশ্বর গ্রামের দেলওয়ার মিয়ার মেয়ে দোলা মনি (৪) বাড়ির বাইরে খেলা করার একপর্যায়ে নিখোঁজ হয়। এ ব্যাপারে ওইদিন কাউনিয়া থানায় নিখোঁজ ডায়েরি হয়। চল্লিশ দিন পেরিয়ে গেলেও শিশুটির সন্ধান পায় না স্বজনরা

গত বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে স্বজনরা নিখোঁজ শিশুটির সন্ধান চেয়ে কাউনিয়া-পীরগাছা সেনা ক্যাম্পে আবেদন করেন। পরে সন্ধ্যার দিকে সেনাবাহিনী ধর্মেশ্বর গ্রামে অভিযান চালিয়ে নুরুল ইসলাম ও তার ছেলে মামুন মিয়াকে আটক করে ক্যাম্পে নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে। দুইজনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাত সাড়ে ১০টার দিকে ধর্মেশ্বর গ্রামে আফজালের বাড়ির পিছনে টয়লেটের সেপটিক ট্যাংক থেকে শিশু দোলা মনি গলিত মরদেহ উদ্ধার করে। হত্যার ঘটনার সঙ্গে জড়িত সোমন মিয়াকে আটক করে সেনাবাহিনী। পরে তিনজনকেই থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

  • উদ্ধার
  • রংপুর
  • লাশ
  • শিশু
  • সেপটিক ট্যাংক
  • মন্তব্য করুন

    আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।