বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থীরা সম্প্রতি ক্লাস এবং পরীক্ষা বয়কট করেছেন। তাদের এই প্রতিবাদের মূল কারণ হচ্ছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত শিক্ষার্থীদের পুনর্বাসন। তারা অভিযোগ করেছেন যে, এসব শিক্ষার্থীরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে এবং তাদের শিক্ষা জীবন ব্যাহত করছে।
ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততা
গত ২৪ সেপ্টেম্বর, শিক্ষার্থীরা ক্লাস-পরীক্ষা বয়কট শুরু করে। তারা জানান, রাজনৈতিকভাবে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ার কারণে এই বয়কটের সিদ্ধান্ত। বিশেষ করে, সোমবার রাতে অভিযুক্ত দুই শিক্ষার্থী হলে উঠলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ জানায়। এসময় তাদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়।
শিক্ষার্থীরা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষকে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তির ব্যবস্থা নিতে হবে। তারা আশা করছেন, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারা ক্লাসে ফিরবেন না। শিক্ষার্থীদের বক্তব্য অনুযায়ী, অভিযুক্তরা ছাত্রলীগের পক্ষে কাজ করছে এবং তাদের পুনর্বাসনের চেষ্টা করছে।
২৪ সেপ্টেম্বরের ঘটনা
অভিযুক্ত দুই শিক্ষার্থী সোমবার রাতে হলে উঠার চেষ্টা করলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ফুঁসে ওঠে। তারা তীব্র ক্ষোভ থেকে মধ্যরাতে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দেন। তারা জানান, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো তদন্ত প্রতিবেদন না হওয়া পর্যন্ত তারা ক্লাসে ফিরে যাবেন না।
কেন বয়কট?
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, এই অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে এবং তাদের শিক্ষাজীবনে বাধা দিচ্ছে। তারা বিভিন্ন ট্যাগ দিয়ে শিক্ষার্থীদের মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে দিচ্ছে, যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে।
এই বয়কটের পেছনে আরও একটি কারণ হচ্ছে, মার্চ মাসে ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেনের বুয়েটে অনুপ্রবেশ। ওই সময় শিক্ষার্থীরা ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করেছিলেন এবং প্রায় দেড় মাস বুয়েট অচল ছিল।
বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ভঙ্গ
বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অনুমতি নিতে হয়। তবে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরা সেই আইন ভঙ্গ করে রাজনৈতিক কার্যক্রম চালাচ্ছে। শিক্ষার্থীরা তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।
ক্লাস-পরীক্ষা বয়কটের প্রভাব
এই ক্লাস-পরীক্ষা বয়কটের ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমে বেশ প্রভাব পড়েছে। শিক্ষার্থীরা একত্রিত হয়ে তাদের দাবি জানাচ্ছেন এবং কর্তৃপক্ষের প্রতি তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।
শিক্ষার্থীরা বলেন, “আমরা আমাদের শিক্ষার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কিন্তু যদি আমাদের নিরাপত্তা না দেওয়া হয়, তাহলে আমরা কীভাবে শিখবো?” তারা বলেন, “আমরা চাই, বিশ্ববিদ্যালয় যেন আমাদের নিরাপদ একটি পরিবেশ প্রদান করে।”
শিক্ষার্থীদের একতা
এই ঘটনার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা দেখিয়ে দিয়েছেন যে, তারা একত্রিত হয়ে নিজেদের অধিকারের জন্য লড়তে পারেন। তারা সকলে মিলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যতক্ষণ পর্যন্ত তারা তাদের দাবি আদায় না করবেন, ততক্ষণ পর্যন্ত তারা ক্লাসে ফিরে যাবেন না।
বুয়েটের শিক্ষার্থীরা মনে করেন, এই বয়কটের মাধ্যমে তারা শুধু নিজেদের জন্য নয়, বরং সকল শিক্ষার্থীর জন্য একটি সুষ্ঠু ও নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করতে চান।
শেষ কথা
বর্তমানে বুয়েটের শিক্ষার্থীরা তাদের অধিকার আদায়ের জন্য কঠোর অবস্থান নিয়েছে। তারা তাদের দাবি আদায়ে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। তারা আশা করছেন, কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ নেবে এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। এই আন্দোলন শুধুমাত্র বুয়েটের শিক্ষার্থীদের জন্য নয়, বরং দেশের সকল শিক্ষার্থীদের জন্য একটি উদাহরণ হয়ে থাকবে।