চট্টগ্রামের কোতোয়ালী থানায় হামলা: মামলায় আসামি ৪০ হাজার

Featured Image
PC Timer Logo
Main Logo

বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক অস্থির পরিস্থিতির মধ্যে চট্টগ্রামের কোতোয়ালী থানায় হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের একটি বড় ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনা সম্পর্কিত মামলার বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হলো।

ঘটনার প্রেক্ষাপট

৫ আগস্ট, ২০২৪ তারিখে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে কোতোয়ালী থানায় একটি বিশাল মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এই মিছিলের প্রেক্ষিতে কিছু দুষ্কৃতকারী থানায় হামলা চালায়। হামলার সময় থানার প্রধান প্রবেশপথ ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করে তারা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নথি, অস্ত্র ও গোলাবারুদ লুটপাট করে। এছাড়াও, থানার বিভিন্ন যানবাহন ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয় এবং থানার ভবনে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনায় মোট ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৮ কোটি ৩০ লাখ টাকা বলে জানা যায়।

মামলার অগ্রগতি

হামলার পরপরই কোতোয়ালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রিপন কুমার দাশ বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা ৩০-৪০ হাজার জনকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, এই মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে যে, দুষ্কৃতকারীরা থানার নথি ও আলামত নষ্ট করেছে এবং থানার অস্ত্র ও গোলাবারুদ লুট করে নিয়ে গেছে।

আইনগত ব্যবস্থা

মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে যে, হামলাকারীরা ১৮৬০ সালের পেনাল কোড, বিস্ফোরক আইন ১৯০৮ এর ৩/৬ ধারা ও বিশেষ ক্ষমতা আইন ১৯৭৪ সনের ১৫(৩)/২৫-ডি ধারায় অপরাধ করেছে। এই আইনগুলো অনুযায়ী, হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পুলিশি ব্যবস্থা ও নিরাপত্তা

সরকার পতনের পর বিভিন্ন এলাকায় থানাগুলোর ওপর হামলা এবং লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এর ফলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যত অচল হয়ে পড়ে। কোতোয়ালী থানার হামলা ও লুটপাটের পর, দেশজুড়ে থানাগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনরায় স্থাপন করার চেষ্টা চলছে। ১৫ আগস্ট, ২০২৪ তারিখে পুলিশ সদর দপ্তরের এক বার্তায় জানানো হয় যে, বাংলাদেশ পুলিশের সকল থানায় ‘অপারেশনাল কার্যক্রম’ শুরু হয়েছে। তবে বাস্তব অবস্থায় হামলার শিকার থানাগুলোর বেশিরভাগ জায়গাতেই জরুরি সরঞ্জাম ও সুবিধা এখনও নেই।

অন্যান্য থানার অবস্থাও সঙ্কটাপন্ন

৫ আগস্টের হামলা শুধু কোতোয়ালী থানায় সীমাবদ্ধ ছিল না। চট্টগ্রাম মহানগরের ১৬টি থানার মধ্যে ৮টি থানায় হামলা, ভাঙচুর ও আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এই হামলায় অন্তত ৪৫টি যানবাহন পুড়ে যায় এবং ৫০০ অস্ত্র ও ১২ হাজারেরও বেশি গুলি লুট করা হয়। থানা ভবনের অবকাঠামোও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ঘটনার পর দেশের পুলিশি ব্যবস্থা পুনরায় পুনঃস্থাপন করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

FAQ

১. কোতোয়ালী থানায় হামলা কবে ঘটেছিল?

৫ আগস্ট, ২০২৪ তারিখে কোতোয়ালী থানায় হামলা ঘটে।

২. হামলার সময় কি কি ক্ষতি হয়েছিল?

হামলায় থানার নথি, অস্ত্র, গোলাবারুদ, যানবাহন, ও আসবাবপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং থানায় আগুন ধরানো হয়।

৩. মামলায় কতজনকে আসামি করা হয়েছে?

মামলায় অজ্ঞাতনামা ৩০-৪০ হাজার জনকে আসামি করা হয়েছে।

৪. হামলার পর পুলিশি ব্যবস্থা কীভাবে পুনরুদ্ধার করা হচ্ছে?

১৫ আগস্ট থেকে পুলিশ সদর দপ্তর ‘অপারেশনাল কার্যক্রম’ শুরু করেছে তবে কিছু থানায় জরুরি সরঞ্জাম এখনও পাওয়া যায়নি।

৫. হামলার ক্ষতির পরিমাণ কত?

প্রায় ৮ কোটি ৩০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

৬. মামলায় কোন আইনগুলির উল্লেখ করা হয়েছে?

১৮৬০ সালের পেনাল কোড, বিস্ফোরক আইন ১৯০৮ এর ৩/৬ ধারা, ও বিশেষ ক্ষমতা আইন ১৯৭৪ সনের ১৫(৩)/২৫-ডি ধারার উল্লেখ রয়েছে।

৭. চট্টগ্রামের কোতোয়ালী থানায় হামলার পর অন্যান্য থানায় কী পরিস্থিতি ছিল?

আরো ৮টি থানায় হামলা, ভাঙচুর, ও লুটপাট করা হয়।

৮. এই হামলার পর পুলিশ সদস্যদের কী অবস্থা ছিল?

অনেক পুলিশ সদস্য আহত হন এবং কিছু পুলিশ সদস্য নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে পালিয়ে যান।

৯. থানা ভবনের অবকাঠামো কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে?

থানা ভবনের অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং অন্তত ২১ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

১০. মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে নতুন কিছু জানানো হয়েছে কি?

হ্যাঁ, মামলা চলমান এবং হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।